সুমির মনের ডায়েরি
আমি সুমি , আমি খুব সাধারণ ঘরের একটি মেয়ে...বাবা মায়ের বড় সন্তান...বাবা মা সব সময় খুব ভালোবাসতেন, এখনো বাসেন তবে আগের মতো না হয়তো...ভাল না বাসারও কিছু কারণ আছে, থাক সে কথা...ছোট থেকেই দেখে আসতেছি মা-বাবা কত কষ্ট করে আমায় মানুষ করেছিলেন...মায়ের কাছ থেকে শুনেছিলাম আমি যখন জন্ম নিই, তখন আমার বাবা কোন কাজ করতেন না...আমার বড় বাবার ব্যবসা দেখাশুনা করতেন বাবা...বলবো না খুব কষ্টে ছিলাম তবে এটা সত্যি বাবা নিজের থেকে তেমন কিছু দিতে পারতেন না আমাদের...এতে আমি বাবার কোন দোষ দেখতাম না, নিজেরি যদি তেমন কিছু না থাকে তাহলে দিবে কিভাবে...যখন আমি একটু একটু হাটা শিখি তখন বাবা আমাদের দাদা বাড়ি নিয়ে আসেন...
.
আসলে বাবার সামর্থ ছিলনা যে নিজের টাকায় বাড়ি বানাবে কিংবা যে কিছু অল্প টাকা পেতেন তা দিয়ে ভাড়া বাসায় থাকবো...তাই বাবা উপায় না দেখে আমাদের দাদা বাড়িতে নিয়ে আসেন...আমার দাদা বাসিতে আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের সময় গুলো পার হতে থাকে...আমার দাদা বাড়িতে আমার মায়ের যে কাকাতো ভাই ছিল সে কারণে অকারণে আমায় মারতো, এছাড়াও বিভিন্ন ভাবে টর্চার করতো সেসব কথা নাই বা বল্লাম...
.
এক সময় আমাকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়...বাবা দাদার ব্যবসা দেখাশুনা করার পাশাপাশি অন্যান্য ছোটখাট কাজও করতো যাতে হাতে কিছু টাকা আসে...দাদা বাড়িতে আমরা সবাই এক সাথে থাকলেও আমার স্কুলের টিফিন আমার মা কে আলাদা ভাবে বানিয়ে দিতে হতো...তা না হলে আমার চাচিরা আমার মা কে অনেক কথা শুনাতো...তো একদিন স্কুল থেকে এসে শুনতে পেলাম আমার এক চাচি আমার মাকে বলছেন, তোমার স্বামিতো তেমন কিছুই করেনা...এখন থেকে তুমি কম খাবার খেয়ে তোমার মেয়ে আর স্বামিকে বেশি খাওয়াবে...দেখলাম মা কথাগুলো শুনে চুপ করে আছেন আর মায়ের চোঁখ দিয়ে টুপ টুপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে অনবরত...
.
আমার তখন ইচ্ছা করছিলো আমার সেই চাচিকে কিছু কথা শুনিয়ে দিই...কিন্তু তা আমি পারলাম না, কিভাবে পারবো...দাদা বাড়িতে আমাদের পক্ষে নিবে এমন কেউ নেই...এখনতো থাকার জায়গাটুকু আছে তখন তাও থাকবেনা...
.
আমি ক্লাস ফোরে উঠার পর আমার বোন আরিনের জন্ম হলো...আমার বাবা আমার ছোট বোনের জন্মের পর কাজের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দেন... এটা বলতে আমার কোন আপত্তি নেই যে আমার বাবা অনেক পরিশ্রমী ছিলেন...আমরা যাতে ভালো থাকি তার সর্বস্ব চেষ্টা করতেন বাবা...আমার অনেক খারাপ লাগতো এই কারণে যে আমার বাবা এতো এতো পরিশ্রম করতো তারপরেও দাদা বাড়ির লোক জনেরা আমার মাকে বলতেন আমার বাবা নাকি কোন কাজ করেনা...মা এতে অনেক কষ্ট পেত এবং অনবরত চোঁখের পানি ফেলতেন...
.
এই কষ্টের মধ্যেই দিন যাচ্ছিলো, কষ্টের মধ্যেই বড় হচ্ছিলাম...দেখতে দেখতে আমার পি.এস.সি এসে গেল...আমি পরীক্ষা দিচ্ছিলাম, দেওয়ার কিছুদিনের ভিতরেই বাবা ঢাকায় চলে যান ভাল চাকরির উদ্দেশ্যে...আমি যখন ক্লাস সিক্সে ভর্তি হই, আমার রেজাল্ট বরাবরি সব সময় ভালো হতো...আমার নিজেরি ইচ্ছা ছিল আমি একদিন ডাক্তার হবো এবং আমার মা,বাবাকে যত কথা শুনিয়েছে তার যোগ্য জবাব দিব...জে.এস.সি তে মাত্র ৫ পয়েন্টের জন্য A+ মিস হয়ে যায় আমার...আমি হাল ছাড়িনি, আমি আর ভাল করে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে থাকি...
.
কিছুদিন পর দাদা বাড়ি থেকে আমাদের বের করে দেওয়া হয়...বাবা খবর পেয়ে সাথে সাথেই ফিরে আসেন...বাবা যে টাকা টুকু জমিয়ে ছিলেন তা দিয়ে একটা ঘর বানালেন থাকবার জন্য...আগের স্কুল থেকে চলে এসে নতুন আরেকটা স্কুলে ভর্তি হলাম...নতুন বাসায় উঠার পর কষ্টের পরিমাণটা যেন আর হাজার গুণ বেড়ে গেল...তাও দমে যাইনি আমি, পড়াশুনাটা ঠিক মতো চালিয়ে যেতে লাগলাম কারণ আমি চাচ্ছিলাম যে বাবা-মা আমার জন্য এত কষ্ট করছেন তাদের তো সঠিক মূল্য দিতেই হবে আমায়...
.
দেখতে দেখতে চোঁখের পলকেই এস.এস.সি পরীক্ষা চলে আসলো...আমিও প্রতিটা পরীক্ষা খুব ভালো ভাবেই দিলাম...
.
যেদিন আমার এস.এস.সি পরীক্ষার রেজাল্ট দিল সেদিন আমি আকাশ থেকে পড়লাম...এতো ভালো পরীক্ষা দিয়েও পাই মাত্র ৩.৪৪, আমি নিজের চোঁখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না...এ কি করে সম্ভব...আমার বাবা, মা কি করবেন বুঝতে পারছিলেন না...অনেক পরে আমি জানতে পেরেছিলাম কেন আমার রেজাল্ট খারাপ হয়, জে.এস.সি পরীক্ষা দিয়েতো আমি নতুন স্কুলে ভর্তি হই...যেটা স্কুলের স্যারেরা মেনে নিতে পারেননি...আর আমার এস.এস.সি পরিক্ষার সিট পরে আগের স্কুলে... তো সেখানের স্যারেরা যখন আমাকে দেখতে পান তখন তারা আগে ভাগেই একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখেন...প্রতি পরীক্ষা শেষে যখন আমি খাতা জমা দিতাম, স্যারেরা আমার সেই খাতা নিয়ে ইচ্ছা করে আমার লুজ ছেড়ে দিতো...যার দরুণ আজ আমার এই অবস্হা...যখন আমি খবরটা জানতে পারি ততদিনে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল...চাইলেই আমি কিছু করতে পারছিলাম না...এখন প্রতিটা রাতেই আমি কান্না করি যে কেন আমার সাথে এমনটি হলো...
.
আমার বোন আরিনের কথা না বললেই নয়, বোন আমার বুঝতে পারার মতো বয়স হবার পর থেকে আমার সুখ, দু:খের সাথি...আরিন যখন থেকে পৃথিবীটাকে দেখতে শুরু করেছে, পরিবারের কষ্ট বুঝতে শিখেছে তখন থেকেই দেখে আসতেছি আমাকে খুব শ্রদ্ধা করে চলতে...আমি যা বলতাম তাই সে করতো এর বাহিরে সে তেমন কিছু করতোনা...আরিন ছোট থেকেই খুবি অভিমানী একটা মেয়ে, যখন সে রাগ করতো বাবা-মা কোন মতেই তার রাগ ভাঙ্গাতে পারতোনা কিন্তু আমি তাকে দু মিনিট বুঝালেই তার রাগ ভেঙ্গে যেতো...আমি কষ্টের বেশিরভাগই তার সাথে শেয়ার করতাম...আরিনও আমাকে বুঝতো এবং আমার শেয়ার করা কথাগুলো অনেক মন দিয়ে শুনতো...
.
.
আমি যখন ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে উঠি তখন প্রথম ফেবু একাউন্ট খুলি...তখন ফেবু সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম বা বুঝতাম না বললেই চলে...শুধু এতটুকুই বুঝতাম যে রিকুয়েস্ট আসলে একসেপ্ট করতে হয় এবং চ্যাট করতে হয়...কিছুদিন পর একটা ফ্রেন্ড রিয়েকুয়েস্ট আসে, নামটা বললাম না...আচ্ছা ধরে নিলাম তাহসান নামের একটা ছেলের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসছে...নতুন বলে ফেবু ফ্রেন্ড খুব একটা ছিলনা তাই আমি তাহসান নামের ছেলেটার রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করে...রাতেই সেই আইডি থেকে এস.এম.এস আসে...টুক টাক কথা হতে লাগল তার সাথে...
.
তাহসান ছেলেটা ইঞ্জিনিয়ার ছিল...এখন বেশির ভাগ সময় তার সাথে কথা হয় আমার...ভালোই লাগত কথা বলতে, দিনকালও ভলোই কাটতে লাগল আমার...হঠাৎ একদিন আমার কাছে ফোন নাম্বার চেয়ে বসে তাহসান...আমিও কিছু মনে না করে ফোন নাম্বার দিয়ে দিই...
.
পরের দিন দুপুরে আমি সেলাই মেশিনে বসে বসে জামা বানাচ্ছিলাম...কিছুক্ষণ পর অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে কল আসলো...
-হ্যালো, আসসামুআলাইকুম কে বলছেন?
-ওয়ালাইকুমুসালাম, আপনি কি সুমি বলছেন?
-জি বলছি...
-আমি তাহসান...চিনতে পেরেছেন?
.
কোন তাহসান আমি ঠিক চিনতে পারছিলাম না প্রথমে...আমি কিছুক্ষণ ভাবতে লাগলাম...আরে তাহসান, হুম ফেবুতে যার সাথে কথা হয়...আমি আর এক মুহূর্ত দেরি না করে বললাম,,
-জি, আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি...
-যাক বাবা শেষ পর্যন্ত চিনলেন তাহলে...
.
এর পর তাহসানের সাথে প্রায় ১৯ মিনিট কথা হয় আমার...পরে তাহসানের অফিস আছে বলে ফোনটা রেখে দিলো...আমার কেন যেন খুব ভাল লাগছিল তবে কারণটা কি বুঝলাম না...তাহসান ফোন দিয়েছে বলে, ধুর আমি কি সেটা জানি নাকি...এর পর থেকে লাগাতার ৭-৮ দিন কথা হয় আমাদের মাঝে...
.
তো অন্যান্য দিনের মতো তাহসানের সাথে কথা হচ্ছিলো আমার...ততদিনে আমরা আপনি থেকে তুমিতে নেমে এসেছিলাম...কথা বলার ফাকে তাহসান আমায় জিজ্ঞেস করে বসলো,,
-সুমি তোমার কেমন ছেলে পছন্দ?
.
প্রশ্নটা শুনে প্রথমে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম...তবে এটাও বুঝলাম যে এমন প্রশ্নতো জিজ্ঞেস করতেই পারে এখানে অবাকের কি আছে...আমি বলতে লাগলাম,,
-প্রথমত তাকে অনেক ভালো হতে হবে...আমায় অনেক বেশি ভালোবাসবে, বিশ্বাস করবে এবং যে আমার ছোট ছোট আবদারগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করবে...
-জানিনা তোমার মনের মতো ছেলে হতে পারবো কিনা তবে তুমি যদি সুযোগ দাও তাহলে আমি সেই ছেলেটি হতে চাই...আমি তোমায় ভালবাসি সুমি , সত্যি অনেক ভালোবাসি...
.
আমি সাথে সাথেই উত্তর দিতে ভরসা পাইনি...আমি তাকে বলেছি ভেবে বলবো...তাহসান তখন করুণ সুরে বলেছিলো সময় নাও তাতে কোন অসুবিধে নেই তবে আশা করি উত্তরটা_আর কিছু বলেনি তাহসান, ফোনাটা তখন কেটে যায়...
.
এতো অল্প সময়ে কাউকে কি এতোটা আপন করে নেওয়া ঠিক হচ্ছে ভাবতে থাকে সুমি ...তবে তাহসানকে যে সুমির ভালো লাগেনা তা কিন্তু নয়... সুমি জানেনা তাহসানকে সে ভালোবাসে কিনা তবে সুমি তাহসানকে কষ্ট দিতে চায়না...তাই যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা নিয়ে ফেলে সুমি ...
.
কিছুদিন পর দুপুরে আবার তাহসান ফোন দেয় আমায় উত্তর জানার জন্য...আমি তাকে হ্যা বলে দিই...তাহসান এতে অনেক খুশি হয়, সে আমার উত্তর শুনে বলেছিল আমি জানতাম সুমি তুমি আমায় নিরাশ করবেনা...আগে যতটা না ঘনিষ্ট ছিলাম আমারা দুজন এখন তারচেয়ে অনেক বেশি ঘনিষ্ট হয়ে গেছি আমরা...আমি নিজেও তাহসানকে ছাড়া এখন কিছুই বুঝিনা...তাহসান এর সাথে এখন একদিন কথা না বললে পুরো পৃথিবী আমার কাছে অন্ধকার মনে হয়...তাহসান অফিস টাইমেও সময় বের করে আমাকে ফোন দেয়...
.
আমাদের রিলেশনটা খুব ভালোভাবেই চলছিল...মাঝে মাঝে খুব ভয় হতো এই ভেবে যে আমার কপালে কি এতো সুখ সহ্য হবে...সুখ জিনিসটা খুব কমি এসেছে আমার জীবনে...আমি সব সময় নামায পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম যেন তাহসান কখনো আমার জীবন থেকে হারিয়ে না যায়...
.
ইদানিং তাহসানকে কেমন যেন মনে হচ্ছে আমার...এমন অদ্ভুদ সব কথা বলছিল যে আমি অবাক না হয়ে পারছিলাম না...একদিন হুট করে তাহসান বলে বসলো আমি তোমাকে আমার জীবনের কিছু সত্য ঘটনা বলতে চাই...কথাগুলো শুনার পর যদি তোমার কাছে মনে হয় আমার সাথে রিলেশন রাখবে তাহলে ভাল কথা আর যদি মনে হয় "না" তাহলে আমি আর কি বলবো যেটা তোমার কাছে ভালো মনে হবে সেটাই করবে...আমি চাইনা তোমাকে কোন কষ্ট দিতে...আমি তাহসানের এমন কথা শুনে অনেক অবাক হয়ে গিয়েছিলাম...যখন তাহসান তার ঘটনাগুলো আমায় বললো তখন আমার মাথায় পুরো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো...আমি কিছুতেই বিস্বাস করতে পারছিলামন...তাহসান বলেছিল সে তার জীবনে ১৬টা মেয়ের সাথে রিলেশন করছে এবং কম বেশি প্রায় সবার সাথেই ফিজিকেল রিলেশন করেছে...তাহসানের এমন করার পিছনেও কিছু কারণ ছিল...তাহসান বলে তার জীবনে প্রথম যে মেয়েটা আসে তাকে সে মন উজাড় করে ভালোবাসতো...কিন্তু এক সময় মেয়েটা তাকে ধোকা দেয় যেটা তাহসান মন থেকে মেনে নিতে পারেনি...সেই ক্ষোভ থেকে সে এতোগুলো মেয়ের সাথে রিলেশন করেছিল...আমি তাও তাহসানকে মেনে নিয়েছিলাম কারণ আমি তাকে সত্যি ভালোবেসেছিলাম..আর ভেবেছি বিয়ের পর হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে...
.
তাহসানের সাথে আমার ভালোই চলছিল...আগের সব কথা যেন ভুলে গেছি। এভাবে কথা বলতে লাগলাম...তো তাহসান আমায় বলে এইচ.এইচ.সি তে A+ আনতে হবে, তা না পারলে নাকি আমার খবর আছে...আমিও তাহসানের কথা রাখতে সাধ্য মতো চেষ্টা করতে লাগলাম...
.
এক সময় রোজা চলে আসে...রোজার সময়ও তাহসানের সাথে ১২ থেকে ২টা পর্যন্ত কথা বলে তারপরে ঘুমাতাম...তো ২৭ রোজা যখন আসে তখন হঠাৎ রাগ নিয়ে আমাকে পড়তে বসতে বলে...আমি বলি শরীরটা ভালো লাগছেনা পরে পড়বো, আমার এই কথা শুনে তাহসান রেগে যায়...এমন ভাবে রেগে যাওয়ার কোন কারণ খুঁজে পেলাম না আমি...তাহসান আর বলতে থাকে যে ও নাকি আর কখনো আই লাভ ইউ কথাটা বলবেনা আমায়...আমি তাকে অনেক করে জিজ্ঞেস করছিলাম যে হঠাৎ এমন রেগে যাচ্ছে কেন, আর এমন অদ্ভুদ সব কথাই বা বলছে কেন...তাহসান কিছুই বললোনা চুপ করে ছিল...
.
রোজা শেষে যেদিন ঈদ আসে, আমি সেদিন তাহসানকে আই লাভ ইউ বলি...ও আমার কথা শুনে বলে আজ পবিত্র দিন আর পবিত্র দিনে এই সব কথা বলতে নেই...আচ্ছা পবিত্র দিনে এই কথা কি সত্যিই বলা যায়না, আমার অবশ্য জানা নেই...আমিও আর বেশি কথা বাড়াইনা...
.
একটা কথা হলো তাহসান আস্তে আস্তে আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলো তা আমি বুঝতে পারছিলাম...কেননা তাহসান কারণে অকারণে আমার সাথে ঝগড়া করতো...যেগুলোর কোন কারণ ছিলনা...
.
তো আমার এইচ.এইচ.সি. পরীক্ষার A+ আসে ঠিকই তবে আমি কোন পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পাইনি...তাই একটা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হই...
.
কিছুদিন পর একদিন তাহসান ফোন দিয়ে বলে ও আমার সাথে প্রেম করবে ঠিকি তবে বিয়ে করবেনা...আমি সাথে সাথেই জিজ্ঞেস করেছিলাম কেন? ও বলে তুমি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পড়...তুমি যদি পাবলিকে পড়তে তাহলে আমার পরিবারকে বলতে পারতাম কিন্তু এখন কিভাবে বলবো...আমি আগেই বুঝে গিয়েছিলাম যে তাহসান আর আমার নেই আগের মতো...সেদিন আমি অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম, সারাদিন কান্না করতে করতে চোঁখের পানি শেষ হয়ে গিয়েছিল...
.
তারও কিছুদিন পর তাহসান ফোন দিয়ে বলে আমার সাথে তার ব্রেক আপ, আমি যেন আর কখনো তাকে ফোন না দিই...
...
আজ এক বছরের মতো হতে চললো তাকে আর আমি ফোন দিইনা, বিরক্ত করিনা...তার সাথে ফেবুতে এখনো আমার এডড আছে কেউ কাউকে ব্লক মারিনি তবে কোন টেক্সট দিইনা কেউ কাউকে...তবে এখনো আমি তাহসানের প্রতিক্ষায় অপেক্ষা করে থাকি...যদি কখনো ফিরে আসে তার জন্য, জানি তা হবেনা তাও কেন যেন অপেক্ষা করতে ইচ্ছা করে...
....
এখন আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই...এখন শুধু চাই পড়া শেষ করে ভাল একটা চাকরি পেয়ে যেন নিজের পায়ে দাড়াতে পারি...তবে একটা কষ্ট সারা জীবনেও ভুলতে পারবোনা সেটা হলো আমার বাবার অনেক আশা ছিল আমাকে ডাক্তার বানিয়ে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলবেন, তা আর হলো কোথায়...বাবাকে অনেক ভালোবাসি তাই বাবার কথা যখনি মনে পড়ে তখনি কষ্টে বুকটা ভরে যায়...বাবাকে বলতে ইচ্ছা করে বাবা তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি, তোমার ইচ্ছাতো আর পূরণ করতে পারলামনা...বাবা আমায় ক্ষমা করে দিও আর হুম তোমার মেয়েটা অনেক অনেক খারাপ, সত্যি অনেক খারাপ........ (লিখাটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে)
.
আসলে বাবার সামর্থ ছিলনা যে নিজের টাকায় বাড়ি বানাবে কিংবা যে কিছু অল্প টাকা পেতেন তা দিয়ে ভাড়া বাসায় থাকবো...তাই বাবা উপায় না দেখে আমাদের দাদা বাড়িতে নিয়ে আসেন...আমার দাদা বাসিতে আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের সময় গুলো পার হতে থাকে...আমার দাদা বাড়িতে আমার মায়ের যে কাকাতো ভাই ছিল সে কারণে অকারণে আমায় মারতো, এছাড়াও বিভিন্ন ভাবে টর্চার করতো সেসব কথা নাই বা বল্লাম...
.
এক সময় আমাকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়...বাবা দাদার ব্যবসা দেখাশুনা করার পাশাপাশি অন্যান্য ছোটখাট কাজও করতো যাতে হাতে কিছু টাকা আসে...দাদা বাড়িতে আমরা সবাই এক সাথে থাকলেও আমার স্কুলের টিফিন আমার মা কে আলাদা ভাবে বানিয়ে দিতে হতো...তা না হলে আমার চাচিরা আমার মা কে অনেক কথা শুনাতো...তো একদিন স্কুল থেকে এসে শুনতে পেলাম আমার এক চাচি আমার মাকে বলছেন, তোমার স্বামিতো তেমন কিছুই করেনা...এখন থেকে তুমি কম খাবার খেয়ে তোমার মেয়ে আর স্বামিকে বেশি খাওয়াবে...দেখলাম মা কথাগুলো শুনে চুপ করে আছেন আর মায়ের চোঁখ দিয়ে টুপ টুপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে অনবরত...
.
আমার তখন ইচ্ছা করছিলো আমার সেই চাচিকে কিছু কথা শুনিয়ে দিই...কিন্তু তা আমি পারলাম না, কিভাবে পারবো...দাদা বাড়িতে আমাদের পক্ষে নিবে এমন কেউ নেই...এখনতো থাকার জায়গাটুকু আছে তখন তাও থাকবেনা...
.
আমি ক্লাস ফোরে উঠার পর আমার বোন আরিনের জন্ম হলো...আমার বাবা আমার ছোট বোনের জন্মের পর কাজের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দেন... এটা বলতে আমার কোন আপত্তি নেই যে আমার বাবা অনেক পরিশ্রমী ছিলেন...আমরা যাতে ভালো থাকি তার সর্বস্ব চেষ্টা করতেন বাবা...আমার অনেক খারাপ লাগতো এই কারণে যে আমার বাবা এতো এতো পরিশ্রম করতো তারপরেও দাদা বাড়ির লোক জনেরা আমার মাকে বলতেন আমার বাবা নাকি কোন কাজ করেনা...মা এতে অনেক কষ্ট পেত এবং অনবরত চোঁখের পানি ফেলতেন...
.
এই কষ্টের মধ্যেই দিন যাচ্ছিলো, কষ্টের মধ্যেই বড় হচ্ছিলাম...দেখতে দেখতে আমার পি.এস.সি এসে গেল...আমি পরীক্ষা দিচ্ছিলাম, দেওয়ার কিছুদিনের ভিতরেই বাবা ঢাকায় চলে যান ভাল চাকরির উদ্দেশ্যে...আমি যখন ক্লাস সিক্সে ভর্তি হই, আমার রেজাল্ট বরাবরি সব সময় ভালো হতো...আমার নিজেরি ইচ্ছা ছিল আমি একদিন ডাক্তার হবো এবং আমার মা,বাবাকে যত কথা শুনিয়েছে তার যোগ্য জবাব দিব...জে.এস.সি তে মাত্র ৫ পয়েন্টের জন্য A+ মিস হয়ে যায় আমার...আমি হাল ছাড়িনি, আমি আর ভাল করে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে থাকি...
.
কিছুদিন পর দাদা বাড়ি থেকে আমাদের বের করে দেওয়া হয়...বাবা খবর পেয়ে সাথে সাথেই ফিরে আসেন...বাবা যে টাকা টুকু জমিয়ে ছিলেন তা দিয়ে একটা ঘর বানালেন থাকবার জন্য...আগের স্কুল থেকে চলে এসে নতুন আরেকটা স্কুলে ভর্তি হলাম...নতুন বাসায় উঠার পর কষ্টের পরিমাণটা যেন আর হাজার গুণ বেড়ে গেল...তাও দমে যাইনি আমি, পড়াশুনাটা ঠিক মতো চালিয়ে যেতে লাগলাম কারণ আমি চাচ্ছিলাম যে বাবা-মা আমার জন্য এত কষ্ট করছেন তাদের তো সঠিক মূল্য দিতেই হবে আমায়...
.
দেখতে দেখতে চোঁখের পলকেই এস.এস.সি পরীক্ষা চলে আসলো...আমিও প্রতিটা পরীক্ষা খুব ভালো ভাবেই দিলাম...
.
যেদিন আমার এস.এস.সি পরীক্ষার রেজাল্ট দিল সেদিন আমি আকাশ থেকে পড়লাম...এতো ভালো পরীক্ষা দিয়েও পাই মাত্র ৩.৪৪, আমি নিজের চোঁখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না...এ কি করে সম্ভব...আমার বাবা, মা কি করবেন বুঝতে পারছিলেন না...অনেক পরে আমি জানতে পেরেছিলাম কেন আমার রেজাল্ট খারাপ হয়, জে.এস.সি পরীক্ষা দিয়েতো আমি নতুন স্কুলে ভর্তি হই...যেটা স্কুলের স্যারেরা মেনে নিতে পারেননি...আর আমার এস.এস.সি পরিক্ষার সিট পরে আগের স্কুলে... তো সেখানের স্যারেরা যখন আমাকে দেখতে পান তখন তারা আগে ভাগেই একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখেন...প্রতি পরীক্ষা শেষে যখন আমি খাতা জমা দিতাম, স্যারেরা আমার সেই খাতা নিয়ে ইচ্ছা করে আমার লুজ ছেড়ে দিতো...যার দরুণ আজ আমার এই অবস্হা...যখন আমি খবরটা জানতে পারি ততদিনে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল...চাইলেই আমি কিছু করতে পারছিলাম না...এখন প্রতিটা রাতেই আমি কান্না করি যে কেন আমার সাথে এমনটি হলো...
.
আমার বোন আরিনের কথা না বললেই নয়, বোন আমার বুঝতে পারার মতো বয়স হবার পর থেকে আমার সুখ, দু:খের সাথি...আরিন যখন থেকে পৃথিবীটাকে দেখতে শুরু করেছে, পরিবারের কষ্ট বুঝতে শিখেছে তখন থেকেই দেখে আসতেছি আমাকে খুব শ্রদ্ধা করে চলতে...আমি যা বলতাম তাই সে করতো এর বাহিরে সে তেমন কিছু করতোনা...আরিন ছোট থেকেই খুবি অভিমানী একটা মেয়ে, যখন সে রাগ করতো বাবা-মা কোন মতেই তার রাগ ভাঙ্গাতে পারতোনা কিন্তু আমি তাকে দু মিনিট বুঝালেই তার রাগ ভেঙ্গে যেতো...আমি কষ্টের বেশিরভাগই তার সাথে শেয়ার করতাম...আরিনও আমাকে বুঝতো এবং আমার শেয়ার করা কথাগুলো অনেক মন দিয়ে শুনতো...
.
.
আমি যখন ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে উঠি তখন প্রথম ফেবু একাউন্ট খুলি...তখন ফেবু সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম বা বুঝতাম না বললেই চলে...শুধু এতটুকুই বুঝতাম যে রিকুয়েস্ট আসলে একসেপ্ট করতে হয় এবং চ্যাট করতে হয়...কিছুদিন পর একটা ফ্রেন্ড রিয়েকুয়েস্ট আসে, নামটা বললাম না...আচ্ছা ধরে নিলাম তাহসান নামের একটা ছেলের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসছে...নতুন বলে ফেবু ফ্রেন্ড খুব একটা ছিলনা তাই আমি তাহসান নামের ছেলেটার রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করে...রাতেই সেই আইডি থেকে এস.এম.এস আসে...টুক টাক কথা হতে লাগল তার সাথে...
.
তাহসান ছেলেটা ইঞ্জিনিয়ার ছিল...এখন বেশির ভাগ সময় তার সাথে কথা হয় আমার...ভালোই লাগত কথা বলতে, দিনকালও ভলোই কাটতে লাগল আমার...হঠাৎ একদিন আমার কাছে ফোন নাম্বার চেয়ে বসে তাহসান...আমিও কিছু মনে না করে ফোন নাম্বার দিয়ে দিই...
.
পরের দিন দুপুরে আমি সেলাই মেশিনে বসে বসে জামা বানাচ্ছিলাম...কিছুক্ষণ পর অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে কল আসলো...
-হ্যালো, আসসামুআলাইকুম কে বলছেন?
-ওয়ালাইকুমুসালাম, আপনি কি সুমি বলছেন?
-জি বলছি...
-আমি তাহসান...চিনতে পেরেছেন?
.
কোন তাহসান আমি ঠিক চিনতে পারছিলাম না প্রথমে...আমি কিছুক্ষণ ভাবতে লাগলাম...আরে তাহসান, হুম ফেবুতে যার সাথে কথা হয়...আমি আর এক মুহূর্ত দেরি না করে বললাম,,
-জি, আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি...
-যাক বাবা শেষ পর্যন্ত চিনলেন তাহলে...
.
এর পর তাহসানের সাথে প্রায় ১৯ মিনিট কথা হয় আমার...পরে তাহসানের অফিস আছে বলে ফোনটা রেখে দিলো...আমার কেন যেন খুব ভাল লাগছিল তবে কারণটা কি বুঝলাম না...তাহসান ফোন দিয়েছে বলে, ধুর আমি কি সেটা জানি নাকি...এর পর থেকে লাগাতার ৭-৮ দিন কথা হয় আমাদের মাঝে...
.
তো অন্যান্য দিনের মতো তাহসানের সাথে কথা হচ্ছিলো আমার...ততদিনে আমরা আপনি থেকে তুমিতে নেমে এসেছিলাম...কথা বলার ফাকে তাহসান আমায় জিজ্ঞেস করে বসলো,,
-সুমি তোমার কেমন ছেলে পছন্দ?
.
প্রশ্নটা শুনে প্রথমে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম...তবে এটাও বুঝলাম যে এমন প্রশ্নতো জিজ্ঞেস করতেই পারে এখানে অবাকের কি আছে...আমি বলতে লাগলাম,,
-প্রথমত তাকে অনেক ভালো হতে হবে...আমায় অনেক বেশি ভালোবাসবে, বিশ্বাস করবে এবং যে আমার ছোট ছোট আবদারগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করবে...
-জানিনা তোমার মনের মতো ছেলে হতে পারবো কিনা তবে তুমি যদি সুযোগ দাও তাহলে আমি সেই ছেলেটি হতে চাই...আমি তোমায় ভালবাসি সুমি , সত্যি অনেক ভালোবাসি...

.
আমি সাথে সাথেই উত্তর দিতে ভরসা পাইনি...আমি তাকে বলেছি ভেবে বলবো...তাহসান তখন করুণ সুরে বলেছিলো সময় নাও তাতে কোন অসুবিধে নেই তবে আশা করি উত্তরটা_আর কিছু বলেনি তাহসান, ফোনাটা তখন কেটে যায়...
.
এতো অল্প সময়ে কাউকে কি এতোটা আপন করে নেওয়া ঠিক হচ্ছে ভাবতে থাকে সুমি ...তবে তাহসানকে যে সুমির ভালো লাগেনা তা কিন্তু নয়... সুমি জানেনা তাহসানকে সে ভালোবাসে কিনা তবে সুমি তাহসানকে কষ্ট দিতে চায়না...তাই যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা নিয়ে ফেলে সুমি ...
.
কিছুদিন পর দুপুরে আবার তাহসান ফোন দেয় আমায় উত্তর জানার জন্য...আমি তাকে হ্যা বলে দিই...তাহসান এতে অনেক খুশি হয়, সে আমার উত্তর শুনে বলেছিল আমি জানতাম সুমি তুমি আমায় নিরাশ করবেনা...আগে যতটা না ঘনিষ্ট ছিলাম আমারা দুজন এখন তারচেয়ে অনেক বেশি ঘনিষ্ট হয়ে গেছি আমরা...আমি নিজেও তাহসানকে ছাড়া এখন কিছুই বুঝিনা...তাহসান এর সাথে এখন একদিন কথা না বললে পুরো পৃথিবী আমার কাছে অন্ধকার মনে হয়...তাহসান অফিস টাইমেও সময় বের করে আমাকে ফোন দেয়...
.
আমাদের রিলেশনটা খুব ভালোভাবেই চলছিল...মাঝে মাঝে খুব ভয় হতো এই ভেবে যে আমার কপালে কি এতো সুখ সহ্য হবে...সুখ জিনিসটা খুব কমি এসেছে আমার জীবনে...আমি সব সময় নামায পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম যেন তাহসান কখনো আমার জীবন থেকে হারিয়ে না যায়...
.
ইদানিং তাহসানকে কেমন যেন মনে হচ্ছে আমার...এমন অদ্ভুদ সব কথা বলছিল যে আমি অবাক না হয়ে পারছিলাম না...একদিন হুট করে তাহসান বলে বসলো আমি তোমাকে আমার জীবনের কিছু সত্য ঘটনা বলতে চাই...কথাগুলো শুনার পর যদি তোমার কাছে মনে হয় আমার সাথে রিলেশন রাখবে তাহলে ভাল কথা আর যদি মনে হয় "না" তাহলে আমি আর কি বলবো যেটা তোমার কাছে ভালো মনে হবে সেটাই করবে...আমি চাইনা তোমাকে কোন কষ্ট দিতে...আমি তাহসানের এমন কথা শুনে অনেক অবাক হয়ে গিয়েছিলাম...যখন তাহসান তার ঘটনাগুলো আমায় বললো তখন আমার মাথায় পুরো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো...আমি কিছুতেই বিস্বাস করতে পারছিলামন...তাহসান বলেছিল সে তার জীবনে ১৬টা মেয়ের সাথে রিলেশন করছে এবং কম বেশি প্রায় সবার সাথেই ফিজিকেল রিলেশন করেছে...তাহসানের এমন করার পিছনেও কিছু কারণ ছিল...তাহসান বলে তার জীবনে প্রথম যে মেয়েটা আসে তাকে সে মন উজাড় করে ভালোবাসতো...কিন্তু এক সময় মেয়েটা তাকে ধোকা দেয় যেটা তাহসান মন থেকে মেনে নিতে পারেনি...সেই ক্ষোভ থেকে সে এতোগুলো মেয়ের সাথে রিলেশন করেছিল...আমি তাও তাহসানকে মেনে নিয়েছিলাম কারণ আমি তাকে সত্যি ভালোবেসেছিলাম..আর ভেবেছি বিয়ের পর হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে...
.
তাহসানের সাথে আমার ভালোই চলছিল...আগের সব কথা যেন ভুলে গেছি। এভাবে কথা বলতে লাগলাম...তো তাহসান আমায় বলে এইচ.এইচ.সি তে A+ আনতে হবে, তা না পারলে নাকি আমার খবর আছে...আমিও তাহসানের কথা রাখতে সাধ্য মতো চেষ্টা করতে লাগলাম...
.
এক সময় রোজা চলে আসে...রোজার সময়ও তাহসানের সাথে ১২ থেকে ২টা পর্যন্ত কথা বলে তারপরে ঘুমাতাম...তো ২৭ রোজা যখন আসে তখন হঠাৎ রাগ নিয়ে আমাকে পড়তে বসতে বলে...আমি বলি শরীরটা ভালো লাগছেনা পরে পড়বো, আমার এই কথা শুনে তাহসান রেগে যায়...এমন ভাবে রেগে যাওয়ার কোন কারণ খুঁজে পেলাম না আমি...তাহসান আর বলতে থাকে যে ও নাকি আর কখনো আই লাভ ইউ কথাটা বলবেনা আমায়...আমি তাকে অনেক করে জিজ্ঞেস করছিলাম যে হঠাৎ এমন রেগে যাচ্ছে কেন, আর এমন অদ্ভুদ সব কথাই বা বলছে কেন...তাহসান কিছুই বললোনা চুপ করে ছিল...
.
রোজা শেষে যেদিন ঈদ আসে, আমি সেদিন তাহসানকে আই লাভ ইউ বলি...ও আমার কথা শুনে বলে আজ পবিত্র দিন আর পবিত্র দিনে এই সব কথা বলতে নেই...আচ্ছা পবিত্র দিনে এই কথা কি সত্যিই বলা যায়না, আমার অবশ্য জানা নেই...আমিও আর বেশি কথা বাড়াইনা...
.
একটা কথা হলো তাহসান আস্তে আস্তে আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলো তা আমি বুঝতে পারছিলাম...কেননা তাহসান কারণে অকারণে আমার সাথে ঝগড়া করতো...যেগুলোর কোন কারণ ছিলনা...
.
তো আমার এইচ.এইচ.সি. পরীক্ষার A+ আসে ঠিকই তবে আমি কোন পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পাইনি...তাই একটা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হই...
.
কিছুদিন পর একদিন তাহসান ফোন দিয়ে বলে ও আমার সাথে প্রেম করবে ঠিকি তবে বিয়ে করবেনা...আমি সাথে সাথেই জিজ্ঞেস করেছিলাম কেন? ও বলে তুমি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পড়...তুমি যদি পাবলিকে পড়তে তাহলে আমার পরিবারকে বলতে পারতাম কিন্তু এখন কিভাবে বলবো...আমি আগেই বুঝে গিয়েছিলাম যে তাহসান আর আমার নেই আগের মতো...সেদিন আমি অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম, সারাদিন কান্না করতে করতে চোঁখের পানি শেষ হয়ে গিয়েছিল...
.
তারও কিছুদিন পর তাহসান ফোন দিয়ে বলে আমার সাথে তার ব্রেক আপ, আমি যেন আর কখনো তাকে ফোন না দিই...
...
আজ এক বছরের মতো হতে চললো তাকে আর আমি ফোন দিইনা, বিরক্ত করিনা...তার সাথে ফেবুতে এখনো আমার এডড আছে কেউ কাউকে ব্লক মারিনি তবে কোন টেক্সট দিইনা কেউ কাউকে...তবে এখনো আমি তাহসানের প্রতিক্ষায় অপেক্ষা করে থাকি...যদি কখনো ফিরে আসে তার জন্য, জানি তা হবেনা তাও কেন যেন অপেক্ষা করতে ইচ্ছা করে...
....
এখন আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই...এখন শুধু চাই পড়া শেষ করে ভাল একটা চাকরি পেয়ে যেন নিজের পায়ে দাড়াতে পারি...তবে একটা কষ্ট সারা জীবনেও ভুলতে পারবোনা সেটা হলো আমার বাবার অনেক আশা ছিল আমাকে ডাক্তার বানিয়ে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলবেন, তা আর হলো কোথায়...বাবাকে অনেক ভালোবাসি তাই বাবার কথা যখনি মনে পড়ে তখনি কষ্টে বুকটা ভরে যায়...বাবাকে বলতে ইচ্ছা করে বাবা তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি, তোমার ইচ্ছাতো আর পূরণ করতে পারলামনা...বাবা আমায় ক্ষমা করে দিও আর হুম তোমার মেয়েটা অনেক অনেক খারাপ, সত্যি অনেক খারাপ........ (লিখাটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে)
Comments
Post a Comment